পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। মূল্যবৃদ্ধি, লাগামছাড়া বিদ্যুতের খরচ, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন বড় আকারের গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সেই আন্দোলনে লাগাম টানতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হন। কয়েকদিন আগেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন প্রায় ২০০ জন।
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জেএএসি। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা ও উন্নয়নের প্রশ্নে উদাসীন থেকেছে। সম্প্রতি প্রশাসন জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তার পর থেকেই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, খাদ্যশস্য, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা পাকিস্তানের নীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। রাওয়ালকোটে কয়েক হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
সংঘর্ষের পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মুজাফফরাবাদ, বাগ এবং নীলম-সহ বিভিন্ন এলাকায়। বেশ কিছু জায়গায় দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ মিছিল হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী সরদার আমান খান জানিয়েছেন, এত মানুষের প্রাণহানির পরও আন্দোলন থামানো যাবে না। তাঁর অভিযোগ, অধিকারের দাবিতে সরব হলেই আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ছে। আন্দোলন দমাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান যেমন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, তেমনই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়ার সমাধান না হলে এই অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, রাজনৈতিক ও মানবিক দিক থেকেও পাকিস্তান সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।




