• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

ভোলবদল অনুব্রতর, এবার দলের হার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

তৃণমূলের ভাঙন দেখা গিয়েছে, বিধানসভা থেকে শুরু করে লোকসভা, রাজ্যসভাতেও। এই দলের ভাঙনের শেষ কোথায় তা এখন বোঝাই যাচ্ছে না

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

তাঁর নামে হয়েছে এফআইআর। শান্তিনিকেতন থানায় তা দায়ের হয়েছে। আর তারপরই দলের পরাজয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এবার তিনিও আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলে কার্যত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককেই দায়ী করলেন। যদিও সরাসরি নাম নেননি। অন্যান্য নেতাদের মতোই কেষ্ট এখন বেসুরো গাইছেন। যা দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিন দলের পরাজয়ের মূল কারণ যে আইপ্যাক সেটা প্রকাশ্যেই তুলে ধরেছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। অথচ তিনি এই জেলার কোর কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছিল। এবার অনুব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, ‘আইপ্যাকই তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির মূল কারণ। আইপ্যাক এসেছে আর দল শেষ হয়েছে। সংগঠনের শক্তিতেই দল চলে। আইপ্যাক দিয়ে কখনও দল চলে না।’

এখন তৃণমূলের ভাঙন দেখা গিয়েছে, বিধানসভা থেকে শুরু করে লোকসভা, রাজ্যসভাতেও। এই দলের ভাঙনের শেষ কোথায় তা এখন বোঝাই যাচ্ছে না। রোজই একজন করে রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। সেখানে এই দল অনুব্রত করবেন কেমন করে? তিনিও কি অন্যান্যদের মতো সম্মান পাচ্ছেন না? সম্মান না পেলে কী করবেন? এইসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেখানে সংবাদমা্ধ্যমে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘সম্মান পেলে দল করব। আর তা না পেলে নীরব থাকব। এখনও তৃণমূলের ছাপই আমার গায়ে লেগে আছে। অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবিনি। রোজ বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে আসি। এটাকে আমি মন্দির বলে মনে করি। তবে দলের সর্বনাশ করেছে আইপ্যাক। সংগঠনের তথ্য বাইরে পাচার করেছে।’

তাছাড়া এখন রোজ দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাঁদের উপর ডিম থেকে শুরু করে পাথর ও গোবর ছোঁড়া হচ্ছে। চোর চোর স্লোগান তো লেগেই আছে। সেসব এখনও শুনতে হয়নি কেষ্টকে। তবে অনুব্রত মণ্ডল একরাশ অভিমান তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় কোনও আইপ্যাক ছিল না। তখন আমরা নিজেদের শক্তিতেই দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। ২০০৯ সালে শতাব্দী রায়কে জিতিয়েছি। ২০১১ সালে সরকার গড়েছি। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সফল হয়েছি। তখন আইপ্যাক ছিল না। ওরা শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশেই এসেছিল। জেলায় তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকেও বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনায় আমাকে আগের মতো কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাই এবারের নির্বাচনে আমি সেভাবে কাজ করিনি।’