• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 11 June, 2026

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করেছে ইরান। তেলের দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হল। মার্কিন বাহিনীর নতুন করে হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করেছে ইরান। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার-সহ কোনও বাণিজ্যিক জাহাজকেই এই জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ করা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের একটি বড় অংশ এই রুটের উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে।

ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের একটি বড় মোড় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারের উপরে পৌঁছেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথ বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়তে থাকলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে পরিস্থিতির উপর। কূটনৈতিক সমাধানের পথ দ্রুত খুঁজে না পাওয়া গেলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।