• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 11 June, 2026

ঋতব্রতের মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে সওয়াল কল্যাণের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টে। গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাই কোর্টে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দলের। দলের প্রতীকে জয়ী কয়েকজন বিধায়ক নিজেদের উদ্যোগে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

সূত্রের খবর, তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই মামলার মাধ্যমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও দলীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে যুক্তি দেন যে, কোনও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় স্তরেই নেওয়া হয়। কয়েকজন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন থাকলেই কোনও ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে কোনও সরকারি বা জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।

এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মতভেদ এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। দলের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সমর্থন করলেও অন্য অংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত নেতৃত্বের পক্ষেই অবস্থান করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মামলা শুধু বিরোধী দলনেতা পদ নিয়েই নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এই বিতর্কের গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।

কলকাতা হাই কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী মঙ্গলবার। সেদিন আদালতে উভয় পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য শোনা হবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই শুনানির দিকেই। কারণ, এই মামলার রায় শুধু বিধানসভার বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব নয়, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।