ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে এবার সরাসরি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সিরিকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
ইরানের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় সিরিক শহরের বামানি ও কুহেস্তাক এলাকায় থাকা দুটি বড় জলাধার ধ্বংস হয়ে যায়। এই জলাধারগুলিই এলাকার পানীয় জলের প্রধান উৎস ছিল। হামলার পর গোটা শহর এবং আশপাশের এলাকায় জল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, বেসামরিক নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পানীয় জলের পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। দূতাবাসের দাবি, এই ঘটনায় নিরীহ মানুষের জীবন আরও সঙ্কটের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবেই ইরানের সামরিক পরিকাঠামোর উপর ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল হরমোজগান প্রদেশের কয়েকটি এলাকা, যার মধ্যে ছিল জাস্ক, সিরিক, কেশম দ্বীপ, মিনাব এবং বন্দর আব্বাস।
তবে মার্কিন হামলার পর চুপ করে থাকেনি ইরানও। আইআরজিসির দাবি, তারা বাহরিনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের বক্তব্য, যে কোনও হামলার জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিকল্প জল সরবরাহের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় জল সরবরাহ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ জলও নেই, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের ময়দান থেকে অনেক দূরে থাকা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি ভুগছেন এই সংঘাতের কারণে।




