পোলিওমুক্ত ভারতের সাফল্যের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। শহরের দুন্দাহেরা নিকাশি ব্যবস্থার শোধনাগার থেকে সংগ্রহ করা দূষিত জলের নমুনায় ভ্যাকসিন-ডিরেভড পোলিও ভাইরাস না ভিডিপিভি টাইপ-১-এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই তৎপর হয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
নিয়ম অনুযায়ী, পোলিও ভাইরাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে বিভিন্ন শহর ও গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থার শোধনাগার থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সম্প্রতি গাজিয়াবাদের দুন্দাহেরা এসটিপি থেকে নেওয়া একটি নমুনা দিল্লির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার সেই রিপোর্টে ভিডিপিভি-১ শনাক্ত হওয়ার খবর মিলতেই জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
এরপরই শহরের ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। রাজনগর, শাস্ত্রীনগর, বুলন্দশহর রোড ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, দৌলতপুরা, নিউ পঞ্চবটি কলোনি, ঘুকনা, হিন্দন বিহার, কৈলা ভাট্টা, মির্জাপুর, বিজয়নগর-১, বিজয়নগর-২ এবং খৈরাতি নগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সের দেড় লক্ষেরও বেশি শিশুর টিকাকরণের অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। তারা নিয়মিত পোলিও টিকা পেয়েছে কি না, কোনও ডোজ বাদ পড়েছে কি না, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পোলিও ড্রপও খাওয়ানো হবে।জেলার সার্ভিল্যান্স আধিকারিক আরকে গুপ্তার মতে, জলে পোলিও ভাইরাসের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন-ডিরেভড পোলিও ভাইরাস সাধারণত এমন এলাকায় ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে যেখানে টিকাকরণের হার কম বা স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা টিকা না পাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পক্ষাঘাতের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।তবে স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এই কাজের জন্য ১২টি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের অধীনে ১০৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা অসুস্থ শিশুদের খোঁজ করার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।




