• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 9 June, 2026

দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের

দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধর্মীয় স্থানের সরকারি নাম হবে ‘জগন্নাথ দেব মন্দির’।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দিঘার জগন্নাথ ধামকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটতে চলেছে। মঙ্গলবার কলকাতায় পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে, দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধর্মীয় স্থানের সরকারি নাম হবে ‘জগন্নাথ দেব মন্দির’।

দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই বিজেপির তরফে আপত্তি তোলা হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য অনুযায়ী ‘ধাম’ শব্দটি বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এবং জগন্নাথ ধাম হিসেবে একমাত্র পুরীকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই অন্য কোনও স্থানের ক্ষেত্রে ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম ব্যবহার করা উচিত নয়।

মঙ্গলবার কলকাতায় এসে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। তিনি জানান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির একটি চিঠি তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই চিঠিতে দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সম্বিত পাত্র বলেন, “মন্দির নির্মাণে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। যত বেশি মন্দির হবে, ততই ভালো। কিন্তু ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সনাতন ধর্মে চারটি ধামের ধারণা রয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনও ধাম নেই। ভগবান জগন্নাথের ধাম হিসেবে পুরীর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে মানুষের আবেগ জড়িত।”

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, দিঘার মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “মায়াপুরের ইসকনের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারি অনুমোদনের নথি পরীক্ষা করে দেখেছি, সেখানে প্রকল্পটির নাম ছিল ‘জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’। কোথাও ‘ধাম’ শব্দের উল্লেখ ছিল না। তাই মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ধর্মীয় স্থানের সরকারি পরিচয় হবে ‘জগন্নাথ দেব মন্দির’। মন্দিরে সমস্ত ধর্মীয় আচার, পুজো-পাঠ এবং উৎসব প্রচলিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।