রাজ্যে ট্রাফিক আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানো রুখতে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের জেরে বদলাতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের অভ্যাস। তারই প্রভাব পড়েছে বাজারে। গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হেলমেটের চাহিদা এবং বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে জরিমানা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত নাকা চেকিং এবং ট্রাফিক অভিযানও চালানো হচ্ছে। ফলে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, বাঁকুড়া, মালদহ, মেদিনীপুর, কৃষ্ণনগর, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি— সর্বত্র হেলমেট কেনার প্রবণতা বেড়েছে।
‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশের অন্যতম হেলমেট প্রস্তুতকারী সংস্থা স্টাডস অ্যাক্সেসারিজের বিক্রি মে মাসে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে শিশুদের হেলমেট বিক্রি, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শিল্পমহলের মতে, এটি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।
স্টাডস অ্যাক্সেসারিজের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আদিত্য ভার্মা জানিয়েছেন, যে সব এলাকায় আগে হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা খুব কম ছিল, সেখানে এখন নিয়ম মেনে হেলমেট পরার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। শিশুদের জন্য হেলমেট কেনার প্রবণতাও সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
শুধু একটি সংস্থা নয়, অন্যান্য হেলমেট প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সংস্থার বিক্রিতে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও জেলা শহরগুলিতে এই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতার একাধিক হেলমেট বিক্রেতার দাবি, মে মাসে তাঁদের বিক্রি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে অতীতে বিক্রির বৃদ্ধির হার সাধারণত ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র মে মাসেই কলকাতায় হেলমেট না পরে বাইক চালানোর অভিযোগে ৩৫ হাজার ৬০০-রও বেশি চালান কাটা হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও ব্যাপক হারে আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানিয়েছেন, ধর্মীয় কারণে শিখ সম্প্রদায়ের জন্য হেলমেট পরার ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ছাড় রয়েছে। তবে অন্যান্য সকল চালকের ক্ষেত্রেই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, ট্রাফিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন জেলায় অভিনব প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। কোথাও ‘যমরাজ’ সেজে প্রচার, কোথাও আবার পথনাটিকার মাধ্যমে মানুষকে হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগও দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।




