মীনাক্ষী ভট্টাচার্য, দিল্লি- রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় স্তরে চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, আগামী ৮ জুন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠককে ঘিরেই প্রকাশ্যে আসতে পারে তৃণমূলের সাংসদদের একাংশের বিক্ষোভ। সূত্রের খবর, দলের একাধিক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতার পদ থেকে সরানোর দাবিতে একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য দিল্লিতেই রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাংসদ নিজেদের সরকারি আবাসনেও থাকছেন না বলে দাবি। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে পারেন বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের বাধা এড়াতে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই পর্দার আড়ালে সাংসদদের সমর্থন জোগানের চেষ্টা চলছে বলে খবর। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ অধিকাংশ সাংসদ। অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য এই ভাঙনের দিকে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকারও। কারণ, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে ফের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ’ বা ডিলিমিটেশন এবং ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত বিল। বিরোধী শিবিরে ফাটল ধরলে ওই বিলগুলির পক্ষে সমর্থন বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও উদ্বেগ দেখায়নি। দলের একাংশের দাবি, সমস্ত সাংসদই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তৃণমূলে যা চলছে সেটা নিতান্তই তাদের দলীয় বিষয়।
সব মিলিয়ে ৮ জুনের দিল্লির বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সত্যিই কি লোকসভায় নতুন সমীকরণ তৈরি হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে মিটে যাবে সব জট, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।




