টালিগঞ্জের চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাঁর গ্রেপ্তারির পর যখন একের পর এক শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলী মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তখন সকলের নজর ছিল অভিনেতা-সাংসদ দেবের দিকে। অবশেষে নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। শুক্রবার দেব বলেন, ‘গতকাল রাত থেকেই প্রচুর ফোন পেয়েছি। কিন্তু কী বলব একজন হেরে যাওয়া মানুষকে নিয়ে? হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে লড়াই করার কোনও মানে হয় না। যে যার কর্মের ফল ভোগ করবে। যখন ওঁর ভাল সময় ছিল, তখন তিনি অনেকের খারাপ সময় এনে দিয়েছিলেন।’
দেবের অভিযোগ, শুধু শিল্পী নন, স্বরূপের জন্য অসংখ্য টেকনিশিয়ানও দীর্ঘদিন কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেককে কার্যত ‘ব্যান’ করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘আমি বহু টেকনিশিয়ানের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাঁদের বলেছি, ভাল সময় আসবে। অনেকেই ভয় পেয়েছেন, ভেঙে পড়েছেন। কেউ কেউ আত্মহত্যার কথাও ভেবেছেন। আজ যা ঘটছে, তা তাঁর নিজের কাজেরই ফল।’
এদিন প্রথমবার নিজের অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে আনেন দেব। তিনি দাবি করেন, তাঁকেও সমাজমাধ্যমে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি কাজ করতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। দেব বলেন, ‘আমি আমার মতো করে লড়াই করেছি। মাথা নত করিনি।’ চলচ্চিত্র জগতে ‘অনুমতি সংস্কৃতি’ চালুর অভিযোগও তোলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, আগে চলচ্চিত্রের কাজ করতে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে জানানো প্রয়োজন হত। কিন্তু পরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে কারা কাজ করবেন, কারা করবেন না, তা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ঠিক করতেন।
তবে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটেননি দেব। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘আমি চাই না কেউ জেলে যাক। কিন্তু অন্যায় করলে তার ফল একদিন না একদিন ভোগ করতেই হয়।’ একই সঙ্গে নতুন রাজ্য সরকারের উপর আস্থা প্রকাশ করে দেব বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তাঁর বিশ্বাস, নতুন প্রশাসন শিল্পের সমস্যাগুলি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।




