তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জেরে এবার জাতীয় স্তরের বিরোধী রাজনীতিতেও বড় ফাটল ধরল। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেবে না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম। দলের স্পষ্ট বক্তব্য, যে বৈঠকে কংগ্রেস থাকবে, সেখানে ডিএমকের পক্ষে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্কে চরম তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হয়ে ভোটে লড়লেও ফল ঘোষণার পর কংগ্রেস সি জোসেফ বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করে নতুন সরকার গঠনের পথে হাঁটে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ডিএমকে নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘পিঠে ছুরি মারা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ডিএমকের মুখপাত্র টিকেএস ইলাঙ্গোভান জানিয়েছেন, দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সেই আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়েই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বা বিজেপি-বিরোধী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদের ভিতরে অন্যান্য বিরোধী দলকে সমর্থন করা হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমকে।
সম্পর্কের অবনতি যে কতটা গভীর হয়েছে তার প্রমাণ সংসদেও মিলেছে। ডিএমকের সাংসদরা লোকসভায় কংগ্রেস সদস্যদের পাশে বসতে চান না বলে স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন দলের সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে লোকসভা সচিবালয় আসন বিন্যাস পরিবর্তনে অনুমোদনও দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডিএমকের এই সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের জন্য বড় ধাক্কা সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। লোকসভায় ডিএমকের ২২ জন সাংসদ রয়েছেন এবং রাজ্যসভাতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কৌশলগত লড়াইয়ে ডিএমকে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে দলটির দূরত্ব বিরোধী ঐক্যের শক্তি কিছুটা হলেও কমাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শরিক ডিএমকেকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। কংগ্রেসও যুক্তি দিয়ে বলে যে, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকা সম্ভব। কিন্তু সেই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি ডিএমকে।
আপাতত স্ট্যালিন শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট। এই মুহূর্তে ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্কের বরফ গলার কোনও ইঙ্গিত নেই। ফলে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ এবং বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




