• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

বাড়ল না রেপো রেট

সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)।

সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। শুক্রবার আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, দুই দিনের বৈঠকের পর মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ছয় সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আপাতত ব্যাঙ্ক ঋণের সুদের হারে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এবং বাড়বে না গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণের ইএমআই-এর বোঝা।

রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। অন্যদিকে, রিভার্স রেপো রেট হল সেই হার, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে অর্থ ধার করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় এই দুই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ গ্রহণের খরচ বেড়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে গ্রাহকদের উপরও। ব্যাঙ্কগুলি তখন ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাড়ে ইএমআই। আবার রেপো রেট কমলে ঋণের সুদের হারও কমে এবং গ্রাহকদের মাসিক কিস্তির চাপ হ্রাস পায়। তাই এবারের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে নজর ছিল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পমহল এবং আর্থিক বাজারের।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে আরবিআই রেপো রেট বাড়াতে পারে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে বর্তমান হারই বহাল রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

সাংবাদিক বৈঠকে আরবিআই গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির উপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত থাকায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

এদিকে চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.৬ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখেছে আরবিআই। মার্চ-এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৭ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিপিআই বা খুচরো মূল্যসূচকভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ৫.১ শতাংশের আশেপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

আরবিআই আরও জানিয়েছে, দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বা ফরেক্স রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।