• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 4 June, 2026

জোজিলার পর ফোটু লা, লাদাখে যোগাযোগ আরও সহজ করতে পদক্ষেপ কেন্দ্রের

জোজিলা ও ফোটু লা—দুটি টানেল চালু হলে কাশ্মীর থেকে লাদাখ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক কার্যত সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করিডরে পরিণত হবে

Image: IANS

লাদাখের সঙ্গে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। জোজিলা টানেলের কাজ প্রায় শেষের মুখে। তারই  মধ্যে এবার ফোটু লা গিরিপথে নতুন টানেল নির্মাণের কাজ শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র। জাতীয় সড়ক-১-এর উপর এই টানেল তৈরি হলে শ্রীনগর, কার্গিল এবং লেহ-র মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক বা মিনিস্ট্রি অফ রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েজ ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটির জন্য অর্থ বরাদ্দও করা হয়েছে। ফোটু লা টানেল নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮২৪ কোটি টাকা। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি একমুখী সুড়ঙ্গ এবং সংযোগকারী রাস্তা তৈরি হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ২.৬৫ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,১০৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ফোটু লা হল শ্রীনগর-কার্গিল-লেহ মহাসড়কের শীর্ষের অংশ। শীতকালে এই এলাকায় ভারী তুষারপাতের কারণে প্রায়ই যান চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক সময় রাস্তা বন্ধও করে দিতে হয় প্রশাসনকে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন টানেল চালু হলে তুষারপাত, বরফ জমা কিংবা খারাপ আবহাওয়ার কারণে আর দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখতে হবে না। পাশাপাশি লেহ ও কার্গিলের মধ্যে যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর জন্যও এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনা, সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য রসদ দ্রুত সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে বহু প্রতীক্ষিত জোজিলা টানেলের কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আগামী সপ্তাহে টানেলটির নির্মাণকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হওয়ার কথা। প্রায় ১৩.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জোজিলা ও ফোটু লা—দুটি টানেল চালু হলে কাশ্মীর থেকে লাদাখ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক কার্যত সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করিডরে পরিণত হবে।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনার পর থেকেই ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র। ফোটু লা টানেল সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এই প্রকল্প শুধু সীমান্তের নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, বরং লাদাখের পর্যটন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন গতি আনবে।