• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 4 June, 2026

‘সংখ্যালঘু সমাজ বুঝে গিয়েছে বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপিকেই প্রয়োজন’ — আলি হোসেন

বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় নয়, সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যেও বিজেপির প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে

রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছে বিজেপির বিভিন্ন শাখা সংগঠন। সেই লক্ষ্যেই বুধবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে সংখ্যালঘু মোর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত রাজ্য সংবর্ধনা সভাকে সামনে রেখে এই বৈঠকে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে দলের প্রভাব বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারের সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত থাকবেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু, দিলীপ ঘোষ এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই কর্মসূচিকে সফল করতে বুধবারের বৈঠকে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আগামী ৫ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন বলেন , পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা আজ বুঝতে পেরেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, সুশাসন এবং স্থিতিশীল প্রশাসনের জন্য বিজেপি প্রয়োজন। এতদিন অনেকেই দূর থেকে বিজেপিকে দেখতেন, কিন্তু এখন তাঁরা উপলব্ধি করছেন যে বিজেপি সম্পর্কে তাঁদের কাছে যে ভুল ধারণা প্রচার করা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’
আলি হোসেন আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় নয়, সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যেও বিজেপির প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করছেন যে বিজেপি সরকার রাজ্যে স্বচ্ছ প্রশাসন, উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। সেই কারণেই আগামী দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আরও বেশি মানুষ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সমাজকে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নয়নের নামে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। এখন মানুষ বিকল্প খুঁজছেন এবং সেই বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। যারা এতদিন বিজেপি থেকে দূরে ছিলেন, তারাও এখন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং দলে যোগদানের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি দাবি করেন, আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তরে সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে আরও বেশি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মানুষের কাছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার জন্য বিশেষ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন আলী হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ‘তৃণমূল কংগ্রেস বুঝতে পেরেছিল যে তারা নির্বাচনে জয়ের অবস্থানে নেই। সেই কারণেই তারা পরোক্ষভাবে সিপিএমকে এগিয়ে দেওয়ার কৌশল নেয়। মানুষের সামনে এক ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, যেখানে তৃণমূল এবং সিপিএমের মধ্যে অঘোষিত বোঝাপড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘ফলতার নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ভোটের অঙ্কে অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে। সাধারণ মানুষও সেই বিষয়গুলি লক্ষ্য করেছেন। তবে মানুষ শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন এবং স্থায়ী রাজনৈতিক বিকল্পের পক্ষেই মত দিয়েছেন।’
বৃহস্পতিবারের সংবর্ধনা সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা যথেষ্ট আশাবাদী বলেও জানান আলী হোসেন। তাঁর মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।