ইরান ও আমেরিকার উত্তেজনা আবার এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে ঘিরে নতুন দিকে মোড় নিল। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তার মধ্যেই এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালী নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। ফলে বিশ্বের জ্বালানি ও সমুদ্র পথে বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি জানিয়েছেন, গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী একটি সংকীর্ণ জলপথ। এর এক পাশে ইয়েমেন, অন্য পাশে জিবুতি ও ইরিট্রিয়া। এই প্রণালীটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রতিদিন প্রায় ৮৮ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবহণ হয়। বিশ্বের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ সমুদ্রপথে বাণিজ্য এই রুট ব্যবহার করে। ইউরোপ–এশিয়া বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডর এটি।এই পথ বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যেতে হবে। ফলে সময় ও খরচ দুটোই অনেক বেড়ে যাবে।
ইরান সরাসরি এই প্রণালীতে নেই। কিন্তু ইয়েমেনের কারণে তাদের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এই অঞ্চলে সক্রিয়, যারা অতীতে একাধিকবার জাহাজে হামলার ঘটনাতেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে এই জলপথে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখে।
ইসমাইল কানির বক্তব্য, গাজা ও লেবাননে সংঘাত না থামলে এই জোট বিভিন্ন ফ্রন্টে পদক্ষেপ নিতে পারে, যার মধ্যে বাব আল-মান্দেবও রয়েছে। এই জলপথের অপর প্রান্তে রয়েছে জিবুতি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ফ্রান্স, জাপান ও ইতালির মতো দেশের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রও বটে।
এর আগেও একাধিকবার ইরান এই প্রণালী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে বাস্তবে বড় কোনো পদক্ষেপ হয়নি। তবুও বারবার এমন মন্তব্য বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা কাটার আগেই বাব আল-মান্দেব ঘিরে নতুন উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হুঁশিয়ারি শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য বড় সতর্ক সঙ্কেত।




