• facebook
  • twitter
Sunday, 31 May, 2026

সামনে এল তৃণমূলের আরও এক অপকর্মের প্রমাণ

দোকান সরাতেই সামনে ২৭ লক্ষের শৌচালয়ের সাইনবোর্ড! শৌচালয় কোথায়? শোরগোল বাঁকুড়া জুড়ে। শুরু তদন্তও।

বেআইনি দখলদার উচ্ছেদের পর সামনে এল এমন এক তথ্য, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ   চত্বরে বাঁকুড়া পুরসভার একটি প্রকল্পের বোর্ড উদ্ধার হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে প্রায় ২৭.৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি শৌচালয় নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু হাসপাতাল চত্বর ঘুরেও সেই শৌচালয়ের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল কলেজের মূল ফটকের উল্টো দিকে একসময় একটি স্ক্যান সেন্টার ছিল। ২০১১ সালের পর সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে পরিত্যক্ত ভবনটি এক ব্যবসায়ী দখল করে ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ওই দখলদারি চলছিল। পরে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার মদতে সেখানে খাবারের দোকানও গড়ে ওঠে।

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে যাতায়াতের পথের ধারে থাকা ওই দোকানটি সবার নজরে এলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি হাসপাতাল সূত্রের। সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ওই ব্যবসায়ীকে জায়গা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার পরই সামনে আসে একটি সাইনবোর্ড, যা এতদিন দোকানের আড়ালে ঢাকা ছিল।

Advertisement

বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় ২৭ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৪১ টাকা ব্যয়ে একটি শৌচালয় নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২৬ নভেম্বর ২০২৫। কাজ শেষ করার জন্য বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে ৯০ দিনের সময়সীমাও দেওয়া হয়েছিল। সেই হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে হাসপাতাল চত্বরে এমন কোনও শৌচালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সামনে আসতেই বিস্মিত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষও। বোর্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রকল্প সংক্রান্ত কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরও যদি প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়ে থাকে, তবে অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুরসভার তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার এবং শৌচালয় নির্মাণের কাজ আদৌ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

Advertisement