অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ জন। হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ, সেই রকমই খবর। প্রথমে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক হয় কয়েকজন। পরে তাঁদের মধ্যে থেকে আরও এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে খবর। সোনারপুর থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ করেছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, তপন মাইতে এবং নির্মাল্য সেনগুপ্ত। আঘাত, বেআইনি ভাবে জমায়েত, পথ আটকানো, গালিগালাজ প্রভৃতি ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতের সবাই রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

শনিবার ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখেই জনরোষের সম্মুখীন হন তিনি। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম ছোঁড়া হয়। চড়-ঘুষি মারা হয়। পাথর ছুঁড়তেও দেখা যায়। সেই সঙ্গে চলে ‘চোর চোর’ স্লোগান।
ধস্তধস্তিতে অভিষেকের জামাও ছিঁড়ে যায়। তার মধ্যেই কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে কিছুক্ষণ ছিলেন। বিকেলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে উদ্ধার করা হয়। অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে আইনি লড়াইয়েরও হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল সাংসদ।
অভিষেকের উপর সোনারপুর থানা একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজ দেখেই পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশে করা হবে। ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

সোনারপুর থেকে অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে যান। হাসপাতালের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। চিকিৎসা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন মমতা। অন্য একটি হাসপাতালেও অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে ভর্তি করানো যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, অভিষেকের ভর্তি করানোর মতো কিছুই হয়নি। এর পর রাতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। মমতা অভিযোগ করেন, মারধরের কারণে অভিষেকের বুকে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। তৃণমূল ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করে। তবে বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী থেকে অরবিন্দ কেজরীওয়াল সহ একাধিক নেতা অভিষেকের উপর হামলার নিন্দা করেছেন।




