ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি (ইন্টারিম ট্রেড ডিল) চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আলোচনার মাত্র এক শতাংশ অংশ বাকি রয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর। শুক্রবার দিল্লির আইআইটি-তে আয়োজিত ইউএস-ইন্ডিয়া ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সের্জিও গোর জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তির প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং এখন কেবল কয়েকটি শেষ মুহূর্তের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর দাবি, চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ভারত সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিল। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
Advertisement
রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী ১ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত আমেরিকার প্রধান বাণিজ্য আলোচকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভারতে আসবে। এই সফরে বাকি থাকা বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে এবং দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, “গত সপ্তাহেই ভারত একটি দলকে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিল বাণিজ্য চুক্তির শেষ এক শতাংশ আলোচনা সম্পূর্ণ করার জন্য। আগামী সপ্তাহে আমরা ভারতে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাব। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।”
Advertisement
গোর আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য হল এমন একটি বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলা, যা দুই দেশের ব্যবসা, শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের দিকেও আলোকপাত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, গত দুই দশকে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। এই বৃদ্ধি দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের শক্ত ভিত্তির প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার দিকে নজর থাকবে শিল্পমহল, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement



