• facebook
  • twitter
Saturday, 30 May, 2026

চাকরি খোয়ালেন বিরূপাক্ষ বিশ্বাস

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বদলের বাংলায় স্বাস্থ্যদপ্তরের কড়া পদক্ষেপ। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও পর্যালোচনার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ, একাধিক এফআইআর এবং দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)-র তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি, তদন্ত রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনার পর স্বাস্থ্যভবন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তিনি ছিলেন থ্রেট কালচারের অন্যতম মাথা। এছাড়াও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুদীপ্ত ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে পেশাগত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে সরকার যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে বলেও মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

Advertisement

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাস প্রকাশ্যে কোনও দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সরকারি নির্দেশ মেনে চলব। আমি এক বছর নয় মাস সিনিয়র রেসিডেন্ট ডক্টর হিসেবে কাজ করেছি। এর বেশি এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই।”

স্বাস্থ্যভবনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহল এবং প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ফলে ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে ঘিরে এই বিতর্ক এবং তার জেরে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Advertisement