• facebook
  • twitter
Saturday, 30 May, 2026

৩০ দিনের জন্য এলপিজি সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ

ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামকে অন্তত ৩০ দিনের অতিরিক্ত এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এবার স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছে ভারত সরকার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে এলপিজির কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা শুরু করেছে কেন্দ্র।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা শুক্রবার জানিয়েছেন, সরকারি তেল বিপণন সংস্থা— ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামকে অন্তত ৩০ দিনের অতিরিক্ত এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যে বাণিজ্যিক মজুত রয়েছে, তার বাইরে এই অতিরিক্ত রিজার্ভ গড়ে তোলা হবে।

Advertisement

সুজাতা শর্মা বলেন, “কৌশলগত এলপিজি রিজার্ভ তৈরির বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ন্যূনতম ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। তারা সেই কাজ শুরু করেছে।” যদিও এই প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

Advertisement

এই অতিরিক্ত গ্যাস মজুত কোথায় এবং কীভাবে রাখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ভূগর্ভস্থ গুহায়, যেমন কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার রাখা হয়, সেই পদ্ধতিতে হবে নাকি মাটির উপরে বিশেষ ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হবে— তা খরচ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।

ভারতে বর্তমানে ৩৩ কোটিরও বেশি পরিবার রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির উপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহে সামান্য সমস্যা তৈরি হলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তার কারণে এলপিজি সরবরাহই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

ভারতের কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের মজুত থাকলেও এলপিজি বা এলএনজি-র জন্য এখনও পর্যন্ত আলাদা কোনও কৌশলগত রিজার্ভ নেই। ফলে ভবিষ্যতের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এলপিজি মজুত বাড়ানোর এই পরিকল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement