রেকর্ড পরিমাণে ডিভিডেন্ড পেতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার মতো। যা সর্বকালীন একটি রেকর্ড, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই ডিভিডেন্ড সরকারের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর জেরে কিছুটা সহজ হবে দেশের আয় ব্যয়ের ভারসাম্য। ঋণের জ্বালায় জেরবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি।
সম্প্রতি G-7 কর্তা ব্যক্তিরাও তাদের ধার নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং এর জন্য তারা যুদ্ধ আর মুদ্রাস্ফীতিকেই দায়ী করেছে। ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলি সম্প্রতি ২.৭ টাকা লিটার পিছু ডিজেল এবং পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে তাদের লস এর বোঝা কিছুটা কমবে, বলে মনে করছে। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তেল কোম্পানিগুলির প্রতি মাসে লসের পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার মতো।
India Ratings and Research(Ind-Ra) গত মঙ্গলবার এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তারা ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা এবং El-Nino প্রভাবে কৃষি নির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে ৬.৭ শতাংশে। সেই দিকে সদা সতর্ক থাকতে হবে সরকারকে।
ক্রমাগতভাবে পড়তে থাকা টাকার দাম গত সপ্তাহে কিছুটা সামলে নিয়েছে। যদিও গত সপ্তাহের মাঝখানে ডলার পিছু টাকা দাম ৯৬ এর ঘর ছুঁয়ে এসে বন্ধ হয়েছে প্রায় ৯৫.২৩ এর আশেপাশে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপের ফলে টাকার দামের উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে টাকার দাম আবার কমতে পারে বলে অনেকের ধারণা। গত সপ্তাহে সেনসেক্স এবং নিফটি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মিড ক্যাপ সূচক ছিল বেশ তেজি। INDIAVIX এক ধাক্কায় কমে এসেছে অনেকটা। যা ভবিষ্যতে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষে আমেরিকার বাজার মোটের উপর ছিল ভালো। আমেরিকার অন্যতম প্রধান সূচক Dow JONES প্রায় দুই শতাংশ উপরে বন্ধ হয়েছে।
এশিয়ার ইনডেক্স গুলির মধ্যে NIKKIE225 এর উত্থান উল্লেখযোগ্য, সাপ্তাহিক বন্ধের ভিত্তিতে প্রায় তিন শতাংশ উপরে বন্ধ হয়েছে। যদি Hongkong এর সূচক বন্ধ হয়েছে প্রায় ১.৪ শতাংশ নীচে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল গত সপ্তাহে ব্যারেল পিছু ১০০ ডলারের উপর থেকে ঘুরে এসে বর্তমানে প্রায় ৯৮ ডলারের আশেপাশে। সমগ্র বিশ্বের বিনিয়োগকারী চোখ এখন অপরিশোধিত তেলের দামের উপর। এতকিছুর মধ্যেও ইতালির সূচক চিপস এবং এনার্জি কোম্পানিগুলির সাপোর্টে ছুয়ে নিয়েছে সর্বকালের উচ্চতাকে।
গত সপ্তাহে আমাদের শেয়ার বাজারে তথ্যপ্রযুক্তি, রিয়ালিটি এবং ব্যাঙ্কের সূচক উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুটা পতনের মুখ দেখেছে মিডিয়া, এফএমসিজি র সূচক । গত সপ্তাহে ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টার (FII) ছিলেন বিক্রেতার ভূমিকায়। গত সপ্তাহে তারা প্রায় ৭৫৭২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন ভারতের শেয়ার বাজার থেকে। অন্যদিকে ক্রেতার ভূমিকায় দেশীয় বিনিয়োগকারীরা, তারা প্রায় 16948 কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন।
দেশীয় বিনিয়োগকারীদের লাগাতার ক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছোটো ছোটো অনেক বিনিয়োগকারীকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এখন লক্ষ্য কেবল অপরিশোধত তেলের দাম এবং যুদ্ধরত দেশগুলির মধ্যে শান্তি চুক্তি স্থাপনের উপর। অবশ্য সমর-বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বিরতির সম্ভাবনা প্রবল। ফলে বাজারে বইতে পারে কিছুটা স্বস্তির হওয়া। যুদ্ধ বিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আসতে পারে বেশ কিছুটা নীচে। যার ফলে লাভবান হবে আমাদের দেশ। বিনিয়োগকারীকে এক দিক থেকে হতে হবে যেমন আশাবাদী তেমনি অন্যদিকে থাকতে হবে সদা সতর্ক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই এর সমন্বয় বিনিয়োগকারী দেখতে পারেন সাফল্যের মুখ।