দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বিচারহীনতার গ্লানি আর সরকারি উদাসীনতায় পিষ্ট মানুষ এখন নতুন আশার আলো খুঁজছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের দরবারে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শিলিগুড়িতে বিধায়কের এই বিশেষ উদ্যোগ রীতিমতো সাড়া ফেলেছে। কোচবিহার থেকে ফরাক্কা—উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের অভাব-অভিযোগের পাহাড়ে প্রথম দিনেই হিমশিম খেতে হয়েছে আয়োজকদের।
রবিবার সকালে শিলিগুড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভোর থেকেই দূর-দূরান্তের সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিলিগুড়ির ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মালদা, মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার থেকে আসা মানুষগুলোর একটাই দাবি—দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যার সুরাহা। তাদের কথায়, ‘এতদিন জনপ্রতিনিধিদের নাগাল পাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। শঙ্কর ঘোষের মাধ্যমে প্রথমবার সরকারের উচ্চস্তরে নিজেদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি।’
Advertisement
এদিন অভিযোগকারীদের তালিকায় ছিলেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ। বিশেষ করে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। কোচবিহার থেকে আসা শিক্ষক ড. কৌশিক আচার্যের দাবি, ‘২০১৬ সালের প্যানেলের যোগ্য প্রার্থী হয়েও আমরা পরিস্থিতির শিকার। আগের সরকারে কোনো সুরাহা মেলেনি, এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না।’ ফরাক্কার বাসিন্দা শুভাশিস মান্না বলেন, ‘তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিনিধির কাছেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের আর্জি নিয়ে এসেছি।’
Advertisement
কেবল চাকরিহারা নয়, তালিকায় রয়েছেন পুলিশ কর্মী নন্দিত মজুমদারও। কর্মরত অবস্থায় জমি সংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েও বিগত সরকারের আমলে কোনও থানা অভিযোগ নিতে চায়নি বলে তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ। এছাড়া জমি বেদখল বা সরকারি ভাতা না পাওয়ার মতো নানা অভিযোগ নিয়ে বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েছেন শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষের বিপুল ভিড় ও তাদের চোখের জল দেখে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে এই রাজ্যের মানুষ বিচারব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমি কেবল একটি মাধ্যম, যে সমস্যার সমাধানগুলো মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেবে।’ শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, জমিজমা থেকে সরকারি পরিষেবা—প্রতিটি বিষয়ের ফাইল ধরে ধরে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি অভাব-অভিযোগই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মানুষই যেন এবার আর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই আমার কাজ।’
শিলিগুড়ির এই জন-দরবার কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বছরের পর বছর জমে থাকা মানুষের ক্ষোভ ও অধিকার ফিরে পাওয়ার এক নতুন দর্পণ হয়ে উঠেছে। বিধায়কের এই তৎপরতা আগামী দিনে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।
Advertisement



