নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এমন কোনও তথ্য তাইওয়ান সরকারের হাতে নেই বলে খবর। তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে, যে সরকারি তথ্য এতদিন প্রচলিত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দুই তরুণ গবেষক ও লেখক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত ও সৈকত নিয়োগী। তাঁদের দাবি, তাইওয়ান সরকারের কাছে এমন কোনও সরকারি তথ্য বা নথি নেই যা ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা এই তথ্য প্রকাশ করেন। জানা গিয়েছে, তাইওয়ান সরকারের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেছিলেন দুই গবেষক। সেই আবেদনের উত্তরে ইমেল মারফত তাইওয়ানের স্বীকৃত গবেষক ইয়েন জুং চ্যাঙ লিখিতভাবে জানান, নেতাজির তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পক্ষে সরকারের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
Advertisement
এই উত্তরের ভিত্তিতে সৌম্যব্রত ও সৈকতের দাবি, এতদিন ধরে প্রচলিত ইতিহাসের ভিত নড়ে গিয়েছে। তাঁদের মতে, এই তথ্য প্রমাণ করে যে নেতাজির মৃত্যুকে ঘিরে সত্য এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক স্তরে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা ‘সুভাষ বোস রিসার্চ সেন্টার’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। নেতাজি-অনুরাগী ও গবেষণায় আগ্রহীদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
Advertisement
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে তাঁদের আবেদন, মুখার্জি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক এবং সংসদে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করা হোক। পাশাপাশি নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আর্জি জানিয়েছেন দুই গবেষক।
Advertisement



