• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 14 October, 2026

বকরি ইদে কুরবানি নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি, রায় স্থগিত

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ পরে এই মামলার রায় ঘোষণা করবে

বকরি ইদে কুরবানি নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি, রায় স্থগিত

Calcutta High Court Photo-SNS

বকরি ইদের আগে পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্যের বিজেপি সরকারের জারি করা নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। মামলার শুনানি শেষে আদালত আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ পরে এই মামলার রায় ঘোষণা করবে।

শুনানিতে এক মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী দেবযানী দাশগুপ্ত দাবি করেন, ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে কোনও ধরনের পশুবলি বা কুরবানি দেওয়া বন্ধ করা উচিত। তিনি বকরি ইদে সমস্ত ধরনের কুরবানি বন্ধের আবেদন জানান।

অন্যদিকে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ সরকারি নির্দেশিকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, পশু জবাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক শংসাপত্র কে দেবে, তার পরিকাঠামো কোথায়, পর্যাপ্ত কসাইখানা রয়েছে কি না— এসব বিষয়ে কোনও স্পষ্টতা নেই। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সারা দেশে ১৪ বছরের বেশি বয়সি গরু কুরবানির যে নির্দেশের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা সম্ভব।

চারটি মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদ। তাঁদের বক্তব্য, ১৯৫০ সালে কৃষিকাজ ও দুধ উৎপাদনের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এই আইন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কৃষিকাজে গরুর ব্যবহার প্রায় নেই। পাশাপাশি তাঁরা জানান, গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী কলকাতা, কালিম্পং ও নির্দিষ্ট কিছু পুর এলাকায় কেবল নির্দিষ্ট কসাইখানার কথা বলা হয়েছিল। সেই ক্ষেত্রে পুরসভাগুলিতে আদৌ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে নতুন সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশুচিকিৎসক পশু জবাইয়ের অনুমোদন দেবেন। কেউ তাতে অসন্তুষ্ট হলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিলও করতে পারবেন। তবে তাঁরা দাবি করেন, একটি গরুর জন্য এক টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারের শর্ত বাস্তবসম্মত নয়। তাঁদের মতে, ১৯৫০ সালের আইন বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই নির্দেশিকার ফলে গরুর হাট প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছে এবং গরু বিক্রিও কমে গিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ধর্মের ব্যবসায়ীদের উপর।

বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গরুর সংখ্যা ও গরুপালন বেড়েছে। তাই গরু কেনাবেচা স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। এছাড়া সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা স্থগিত করা উচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন, কুরবানির জন্য ব্যবহৃত পশুর স্বাস্থ্যও নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চম মামলার আবেদনকারী মেঘনাদ দত্তের মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিশিথা মাত্রে নির্দেশ দিয়েছিলেন বেআইনি পশুর বাজার বন্ধ করতে এবং নির্দিষ্ট স্থানেই বলি বা কুরবানির ব্যবস্থা রাখতে।

মামলার শুনানিতে আইনজীবী সাদান ফারাজ জানান, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে যে পশুবলি দেওয়া হয়, সেখানে সাধারণত সুস্থ পশুই ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিতর্কিত নোটিফিকেশনটি নির্দিষ্ট পুর এলাকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অন্যদিকে কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের নির্দেশের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ আগেই জানিয়েছিল যে বকরি ইদে গরু কুরবানি দেওয়া কোনও মৌলিক অধিকার নয়।