• facebook
  • twitter
Thursday, 21 May, 2026

পরমব্রত-স্বস্তিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, পুরনো পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

২০২১ সালের সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের। নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে কলকাতায়।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়েরকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২১ সালের ২ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সামাজিক মাধ্যমে হওয়া একটি পোস্ট এবং তার প্রতিক্রিয়াকে ঘিরেই এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের উত্তরে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযোগকারীর দাবি, সেই পোস্ট এবং প্রতিক্রিয়া ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসাকে উৎসাহিত করেছিল।

Advertisement

গড়িয়াহাট থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যখন রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে আসতে শুরু করে, সেই সময় দুই অভিনেতার সামাজিক মাধ্যমের বার্তা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেওয়ার কাজ করেছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ওই পোস্টগুলির প্রভাব জনমনে পড়েছিল এবং তা রাজনৈতিক হিংসায় প্ররোচনার পরিবেশ তৈরি করেছিল।

Advertisement

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ, খুন, হেনস্থা এবং অগ্নিসংযোগের মতো একাধিক ঘটনার আবহে এই ধরনের পোস্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। সেই কারণেই প্ররোচনা এবং হিংসায় মদতের অভিযোগ তুলে দুই অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী হিসেবে জয়দীপ সেন নামে এক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত তদন্ত শুরু করা হোক এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হবে কি না, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাঁচ বছর আগের সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে চলে এসেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সামাজিক মাধ্যমে করা মন্তব্য আদৌ সরাসরি হিংসায় প্ররোচনা হিসেবে গণ্য হতে পারে কি না, তা তদন্ত এবং আদালতের ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করবে। ফলে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Advertisement