গত বছর এপ্রিলে পহেলগামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে নতুন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনআইএ। সংস্থার দাখিল করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, গোটা হামলার পরিকল্পনা পাকিস্তানে বসেই করা হয়েছিল এবং হামলার দিন জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সরাসরি যোগাযোগ রেখে পুরো অভিযান ‘রিয়্যাল টাইম’-এ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলার মূলচক্রী হল লশকর-ই-তৈবা ও তার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর নেতা সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট, যিনি ‘ল্যাংড়া’ নামেও পরিচিত। এনআইএ জানিয়েছে, তিনি লাহোর থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন এবং এখনও পাকিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে সন্দেহ।
হামলার পর টিআরএফ প্রথমে ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে দায় স্বীকার করলেও পরে তারা সেই দাবি অস্বীকার করে। সংগঠনের বক্তব্য ছিল, তাদের চ্যানেলটি হ্যাক করা হয়েছিল। তবে এনআইএ তদন্তে জানতে পেরেছে, ওই চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাট্টাগ্রাম এলাকায় তৈরি হয়েছিল। আরও একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে, যা রাওয়ালপিন্ডি থেকে পরিচালিত হত।
Advertisement
তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় রেকি করেছিল তিন জঙ্গি— ফয়জল জাট, হাবিব তাহির এবং হামজা আফগানি। তাঁদের নির্দেশ দিয়েছিলেন সইফুল্লাই। পরে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন মহাদেব’-এ এই তিন জঙ্গিকে খতম করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দু’টি মোবাইল ফোন পাকিস্তান থেকেই কেনা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে এনআইএ। একটি মোবাইল অনলাইনে কিনে লাহৌরের একটি ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, অন্যটি কেনা হয়েছিল করাচি থেকে।
Advertisement
Advertisement



