• facebook
  • twitter
Tuesday, 19 May, 2026

নরওয়েতে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের সংবাদিক বৈঠকে সংখ্যালঘু প্রশ্নে বিতর্ক, জবাব দিল্লির

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন নরওয়ের সাংবাদিক হিলি লিং বারবার ভারতের মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নরওয়ে সফরের মধ্যেই সোমবার রাতে অসলোর এক সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে তৈরি হল তীব্র বিতর্ক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন নরওয়ের সাংবাদিক হিলি লিং বারবার ভারতের মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই প্রশ্নের জবাবে কড়া অবস্থান নেন বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম)সিবি জর্জ।

অসলোর এক হোটেলে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে হিলি লিং জানতে চান, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহল কেন ভারতের উপর আস্থা রাখবে। প্রশ্নোত্তরের সময় পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু সময়ের জন্য বৈঠক ছেড়েও বেরিয়ে যান ওই সাংবাদিক, যদিও পরে ফের ফিরে আসেন।

Advertisement

জবাবে সিবি জর্জ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ভারতের মতো বৃহৎ ও বহুত্ববাদী দেশকে না বুঝেই অনেক সময় পশ্চিমী দুনিয়া কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মত গঠন করে। তাঁর কথায়, ‘কয়েকটি অজ্ঞ এনজিও-র লেখা রিপোর্ট পড়ে ভারত সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।‘

Advertisement

ভারতের সংবাদমাধ্যমের পরিসর তুলে ধরে তিনি বলেন,  ‘আপনারা কি জানেন ভারতে কত খবর তৈরি হয়? আমাদের এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ব্রেকিং নিউজের বন্যা বয়ে যায়। শুধুমাত্র দিল্লিতেই ইংরেজি, হিন্দি এবং একাধিক আঞ্চলিক ভাষায় অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে। ভারতের পরিধি ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে এদের কোনও ধারণাই নেই। এরা কিছু নামগোত্রহীন, অজ্ঞ এনজিও-র লেখা দু-একটি রিপোর্ট পড়ে চলে আসেন এবং এখানে এসে প্রশ্ন তোলেন।’

দেশে প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং শুধু দিল্লিতেই বহু ভাষায় প্রায় ২০০টি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষভাবে নারী অধিকারের প্রসঙ্গ টেনে সিবি জর্জ মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল, যেখানে বিশ্বের বহু উন্নত দেশ পরে সেই অধিকার দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণের অধিকার এবং নারীদের সমান অধিকারের বিষয়ে আমাদের সংবিধান গ্যারান্টি দেয়। আর মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কী? নিজের ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করার ক্ষমতা। ভারতে সেটাই প্রতিনিয়ত হচ্ছে এবং আমরা তা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।‘

এই বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য আগের দিন থেকেই। সমাজমাধ্যমে হিলি লিং অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে গিয়েছিলেন। বিশ্বের ‘প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’-এর তুলনা টেনে ভারতের সমালোচনাও করেন তিনি।পরে নরওয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাঁকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে প্রশ্ন করার আমন্ত্রণ জানায়।

ঘটনাটি ঘিরে দেশের রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে ওই সাংবাদিকের পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, ‘যখন লুকানোর কিছু থাকে না, তখন ভয় পাওয়ারও কিছু থাকে না।‘ প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফরের মাঝেই বিদেশের মাটিতে এই সাংবাদিক বৈঠক এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

 

Advertisement