• facebook
  • twitter
Tuesday, 19 May, 2026

সুইডেনে মোদীকে বাঙালি ঐতিহ্যে বরণ

সুইডেনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ নেতাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বাড়তি গুরুত্বেরই প্রতিফলন এই সম্মান।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সুইডেন সফরে গিয়ে বিরল সম্মান এবং আবেগঘন অভ্যর্থনার সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গোথেনবার্গে পৌঁছতেই প্রবাসী বাঙালিরা পিতলের বরণডালা, উলুধ্বনি এবং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী রীতিতে তাঁকে স্বাগত জানান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও। প্রবাসী বাঙালিদের এই আয়োজনে স্পষ্ট হয়ে উঠল বিদেশের মাটিতেও বাংলা সংস্কৃতির গভীর প্রভাব।

এই উষ্ণ অভ্যর্থনায় আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মোদীও সামাজিক মাধ্যমে বাংলায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, বাঙালি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এবং সুইডেনও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর মতে, এই অনুষ্ঠান বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।

Advertisement

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা কবিতার অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে তুলে দেওয়া। সুইডেনের জাতীয় সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত থাকা বিশ্বকবির দুটি হাতে লেখা পঙক্তির প্রতিলিপি উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে। সুইডেন সরকার জানায়, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রচনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক মূল্যবান স্মারক।

Advertisement

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন সামাজিক মাধ্যমে জানান, এই উপহার ভারত ও সুইডেনের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য এবং চিন্তাধারা ইউরোপে বহুদিন ধরেই সমাদৃত। ফলে তাঁর হাতে লেখা কবিতার অনুলিপি উপহার দেওয়া নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার বার্তা।

রবিবার সুইডেনে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান উলফ ক্রিস্টারসন। এরপরই ঘোষণা করা হয়, সুইডেন সরকার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ সম্মানে ভূষিত করছে। এটি সুইডেনের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান, যা সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান অথবা সরকার প্রধানদেরই দেওয়া হয়।

১৭৪৮ সালে চালু হওয়া এই সম্মান জনজীবনে বিশেষ অবদান এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। এই সম্মান পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রাপ্ত সম্মানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১-এ।

উল্লেখ্য, সুইডেন সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং বিনিয়োগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সফর ভারত-সুইডেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলের মতে, এই সফরে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের গুরুত্ব উঠে এসেছে, তেমনই বাংলা সংস্কৃতিও বিশ্বমঞ্চে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Advertisement