• facebook
  • twitter
Thursday, 14 May, 2026

অবশেষে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন পুলিশ কর্তা শান্তুনু সিনহা

জমি দখল, তোলাবাজি, বালি পাচার এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে

একাধিকবার তলবের পর অবশেষে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জমি দখল, তোলাবাজি, বালি পাচার এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, কসবার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ডিসিপি শান্তনুর। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সেই সব কর্মকাণ্ডে পুলিশ আধিকারিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে শান্তনুকে। বালি পাচার মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

 সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তাঁকে দু’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১.২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়।

এছাড়াও ১ এপ্রিল কলকাতার ছ’টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি।  সোনা পাপ্পুর বালিগঞ্জের বাড়ি, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাহুল দাসের বাড়িতেও তল্লাশি চলে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, পুরো চক্রটি ভুয়ো নথি তৈরি করে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করত এবং সেই জমির উপর ভিত্তি করে বেআইনি নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা চালাত। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই অর্থের কিছু অংশ বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

এছাড়াও গত মাসে রিয়েল এস্টেট সংস্থা মার্লিন গ্রুপের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়, যার মধ্যে ছিল সংস্থার প্রোমোটার সুশীল মোহতা ও তাঁর পুত্র সাকেত মোহতার বাসভবনও। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কলকাতার রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে জমি দখল ও আর্থিক অনিয়মের বৃহত্তর চক্রের অংশ হিসেবেই এই তদন্ত চলছে।

ভোটের আগে শান্তনুর বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই অভিযান। তল্লাশির পরদিনই তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন ও মণীশকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। তবে সেদিন কেউ হাজিরা দেননি। পরে একাধিকবার তলব করা হলেও কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান ডিসিপি শান্তনু। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অবশেষে বৃহস্পতিবার ইডি দপ্তরে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা শুরু করলেন তিনি।

 

 

 

Advertisement

Tags:

Recommended