• facebook
  • twitter
Wednesday, 13 May, 2026

সরকারি হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটের কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর

‘প্রয়োজনে আমিও গিয়ে দেখব’

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে এবার সরাসরি কড়া অবস্থান নিল নতুন রাজ্য সরকার। রোগী পরিষেবায় কোনওরকম গাফিলতি বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন, কলকাতার সমস্ত সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে এবং শুরু করতে হবে আচমকা পরিদর্শন বা সারপ্রাইজ ভিজিট।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন। তাই হাসপাতালের পরিষেবা যাতে স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে চলে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘মানুষ হাসপাতালে গিয়ে যেন কোনও সমস্যার মুখে না পড়েন। পরিষেবার মান সবসময় নজরে রাখতে হবে।’

Advertisement

শুধু আধিকারিকদের উপর দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে নিজেও হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘প্রয়োজনে আমিও আচমকা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব।’ জেলার হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদেরও নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

বুধবারের বৈঠকে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজকর্ম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই তিনি নিজে স্বাস্থ্য দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্প, হাসপাতাল পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। একইভাবে শিক্ষা দপ্তরেও গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক বৈঠকে শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা নয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কাজ আগামী সাত দিনের মধ্যে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪১টি দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত দপ্তরকে বাজেট প্রস্তুত করার কথাও বলা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরে অতীতে নিয়ম মেনে টেন্ডার হয়নি বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার থেকে সব টেন্ডার সরকারি নিয়ম মেনেই করতে হবে। কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই কড়া অবস্থান বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এছাড়াও পরিবহণ দপ্তরকে আরও বেশি সংখ্যক বিদ্যুৎচালিত বাস রাস্তায় নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ বাড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement