• facebook
  • twitter
Saturday, 9 May, 2026

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানার আবহে মোড়া বিজেপির শপথ অনুষ্ঠান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই খাবারটিকে রাজনৈতিক প্রচারের একটি ‘বাঙালি প্রতীক’ হিসেবেও তুলে ধরতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

শুভম বোস

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার শুধু নতুন সরকারের শপথগ্রহণই হয়নি, সেই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি নজর কেড়েছে বাঙালিয়ানার বিশেষ উপস্থাপনাও। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের অন্যতম অভিযোগ ছিল, দলটি নাকি বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগ বোঝে না। আর সেই অভিযোগের জবাব দিতেই যেন এ দিনের অনুষ্ঠানে বাঙালির সংস্কৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করল গেরুয়া শিবির।

Advertisement

মঞ্চের চারপাশে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-সহ বাংলার মনীষীদের বড় বড় প্রতিকৃতি। ব্রিগেডের বিভিন্ন প্রান্ত সাজানো হয়েছিল বাংলার লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানে। কোথাও বাউল গান, কোথাও পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্যের পরিবেশনা। লোকশিল্পীদের উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠানস্থলেই তৈরি হয়েছিল এক অন্য আবহ।

Advertisement

তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় খাবারের স্টলগুলিতে। বিশেষ করে ঝালমুড়ির স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আয়োজকদের দাবি, কয়েক হাজার ঝালমুড়ির প্যাকেট বিক্রি হয়েছে অনুষ্ঠান চলাকালীন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ঝাড়গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই খাবারটিকে রাজনৈতিক প্রচারের একটি ‘বাঙালি প্রতীক’ হিসেবেও তুলে ধরতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই ব্রিগেডের অনুষ্ঠানেও ঝালমুড়ির স্টলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ছিল বাংলার বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির স্টলও। রসগোল্লা, কালাকাঁদ, সন্দেশ থেকে শুরু করে পদ্ম চিহ্ন আঁকা বিশেষ মিষ্টিও নজর কেড়েছে দর্শকদের। একটি রসগোল্লার বড় পাত্রের উপর গেরুয়া পাগড়ি পরানো সাজও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকেই বাংলায় প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। সেই সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি ‘বহিরাগত’দের নিয়ে রাজনীতি করে। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই ভাবমূর্তি বদলাতেই গত কয়েক বছরে বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোশাকেও বহুবার দেখা গিয়েছে বাংলা সংস্কৃতির ছাপ। শনিবারের ব্রিগেডের অনুষ্ঠানেও সেই কৌশলই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। রাজনৈতিক শপথের মঞ্চের পাশাপাশি এ দিন ব্রিগেডে সমানভাবে জায়গা পেল বাংলা, বাঙালি এবং বাঙালির সংস্কৃতি।

Advertisement