প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।’ পাশাপাশি ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যত ‘অন্ধ পক্ষপাত’ এবং পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কোথাও সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি, তবুও অনেকের ধারণা— এই মন্তব্যের নিশানায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Advertisement
দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, তৃণমূলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে এবং আইপ্যাক নির্ভর ‘কর্পোরেট রাজনীতি’-র কারণে পুরনো নেতাদের গুরুত্ব কমেছে। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর সেই ক্ষোভ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই আবহে প্রিয়দর্শিনীর পোস্টকে অনেকেই বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্যেরই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন।
Advertisement
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাভারত ও রামায়ণের উদাহরণ টেনে প্রিয়দর্শিনী বোঝাতে চেয়েছেন— ইতিহাসে বারবার পরিবারতন্ত্র ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের ফলেই বড় শক্তির পতন হয়েছে। তাঁর পোস্টে সেই সতর্কবার্তাই যেন উঠে এসেছে। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই তুলনাই এখন জোর চর্চার বিষয়।
ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে সময়। কারণ, সম্প্রতি দলের পাঁচ বিদ্রোহী মুখপাত্রকে শো-কজ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ডেরেক ও’ব্রায়েন কড়া বার্তা দেওয়ার পরও দলের অন্দরের অসন্তোষ যে থামেনি, প্রিয়দর্শিনীর পোস্ট যেন সেটাই সামনে এনে দিল। শো-কজ হওয়া নেতাদের দাবি ছিল, বিদায়ী মন্ত্রিসভার একাধিক প্রভাবশালী সদস্য নীরবে তাঁদের পাশে রয়েছেন। ফিরহাদ হাকিমের কন্যার এই পোস্ট সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
এদিকে ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন কালীঘাটের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রিয়দর্শিনীর এই মন্তব্যের পর দলীয় শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Advertisement



