দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন রূপে সেজে উঠছে রাজ্য বিধানসভা ভবন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফল করে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন সরকারের শপথগ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে নতুন ছন্দে। তার আগেই বিধানসভা চত্বরে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি এবং সাজসজ্জার কাজ।
সূত্রের খবর, গোটা বিধানসভা ভবন এবং আশপাশের এলাকা গেরুয়া আলোর আবরণে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫০টি আলোর সেট এনে লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই আলোকসজ্জার নতুন রূপ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে বিধানসভা ভবনের এই সাজ এখন কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
Advertisement
ভবনের ভিতরেও শুরু হয়েছে একাধিক পরিবর্তনের কাজ। বিদায়ী মন্ত্রীদের নামফলক খুলে ফেলা হয়েছে। এমনকি বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামফলকও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত স্পিকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট ফলক ছাড়া অন্য সব নাম সরিয়ে রাখা হয়েছে। শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং নতুন স্পিকারের নাম বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে তৈরি হচ্ছে একটি নতুন স্থায়ী র্যাম্প। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে বিধানসভার বাগানমুখী অংশে সহজ যাতায়াতের জন্য এই র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তার নকশা, রং এবং কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকীভাবে বিধানসভায় এসে বসতে পারেন। আপাতত এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হবে। সেই কারণে শনিবারের জন্য কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ থাকা একাধিক ঘর খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজও চলছে জোরকদমে।
নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ নবান্নের পরিবর্তে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই পরিচালিত হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও মহাকরণের সংস্কারকাজ শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। সেই কারণে আগামী প্রায় ছয় মাস বিধানসভা ভবন থেকেই অস্থায়ীভাবে সচিবালয়ের কাজ চালানো হবে।
জানা গিয়েছে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরেই বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি একই চত্বরে থাকা প্ল্যাটিনাম জুবিলি হলকে অস্থায়ী সচিবালয় হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশাসনিক পরিকাঠামো তৈরি এবং আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সেখানে দ্রুত কাজ চলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই প্রস্তুতি। বহু বছর পর বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্রকে ঘিরে এমন ব্যস্ততা এবং নতুন সাজ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আগ্রহও তুঙ্গে উঠেছে।
Advertisement



