পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল। বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর পড়ল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা সর্বসম্মতভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছেন। এর ফলে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিজেপির পরিষদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। বৈঠকে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্রের জয়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হলে সমস্ত বিধায়ক সমর্থন জানান। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা ঘোষণা করা হয়।
Advertisement
দলীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যাতেই শুভেন্দু অধিকারী রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন। সেখানে তিনি রাজ্যপালের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থনপত্র জমা দেবেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক ফলাফলের পিছনে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সংগঠনকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াই— সব ক্ষেত্রেই তিনি বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
Advertisement
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও এই ঘোষণাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতার একাধিক এলাকায় দলীয় পতাকা, আবির এবং মিছিলের ছবি সামনে এসেছে। বহু কর্মীর বক্তব্য, বাংলার রাজনীতিতে এবার নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। শনিবার সম্ভাব্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, এনডিএ শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন।
নতুন সরকার গঠনের আগে থেকেই প্রশাসনিক রদবদল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে এই পরিবর্তন আগামী দিনের সমীকরণকে অনেকটাই বদলে দিতে পারে।
Advertisement



