• facebook
  • twitter
Sunday, 3 May, 2026

ফলতার ভোট বাতিল কাণ্ডে প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শাস্তির মুখে একাধিক আধিকারিক 

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হলেও একাধিক গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে সেই ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনর্নির্বাচনের দিনও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ভোট বাতিলের পর এবার দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক আধিকারিকের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

ভোট-পরবর্তী রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার থেকে সাধারণ পর্যবেক্ষক— সবার ভূমিকা নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। সূত্রের খবর, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাসপেনশন থেকে চাকরি খোয়ানো— সবই সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্ট ঘিরে। অভিযোগ, তিনি রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন ব্ল্যাক টেপ সরানোর পর ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। কিন্তু কমিশনের প্রশ্ন, শুধু একটি বুথ নয়, প্রায় ৪০টিরও বেশি বুথে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল সেদিন। তাহলে এত গুরুতর ঘটনা ঘটার পরও দুপুর ১টা পর্যন্ত কেন কোনও রিপোর্ট পাঠানো হয়নি?

Advertisement

রিটার্নিং অফিসার ও সাধারণ পর্যবেক্ষকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, একাধিক বুথে অভিযোগ ওঠার পরও তাঁদের রিপোর্টে রিপোলের প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয় এবং ফর্ম ১৭ সি-ও জমা দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ফলতায় আসছেন জেনেও সাধারণ পর্যবেক্ষক অপেক্ষা না করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। স্ক্রুটিনির সময় বিজেপিকে না ডাকার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ফলতায় কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা কেন সময়মতো রিপোর্ট দিলেন না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে দিনভর কারচুপি, বাধা, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনের কাছে। পর্যালোচনার পর পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটের আগেই অশান্তির আশঙ্কায় ফলতা ছিল কমিশনের কড়া নজরদারিতে। এলাকায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অজয় পাল শর্মা। একাধিক অভিযানে তাঁকে এলাকায় টহল দিতেও দেখা যায়। তা সত্ত্বেও কিভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

এদিকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগেই এলাকায় হুমকি, হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে টানা দুই দিন বিক্ষোভে সামিল হন বহু ভোটার।

উল্লেখ্য, আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটগণনা হবে ২৪ মে। ফলে ৪ মে গণনার দিন ফলতা কেন্দ্র বাদ রেখে বাকি ২৯৩টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement