নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্ক যখন জটিল হয়ে উঠছে, তখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা বাবান ঘোষ। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা জল্পনা, কখনও বলা হচ্ছে তিনি নাকি তৃণমূলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় রয়েছেন, কখনও আবার দাবি উঠছে বিজেপির সঙ্গেও তাঁর ‘যোগসূত্র’ রয়েছে। গুজব ছড়ানো হচ্ছে, ভোটের অঙ্ক মেলাতে তিনি নাকি “চুপচাপ অন্য দলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তাঁকে ঘিরে ছড়ানো নানা গুজব নিয়ে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল বদলের কোনও প্রশ্নই নেই। তিনি বলেন, ‘আমার নাম ইচ্ছে করে তৃণমূল বা বিজেপির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মানুষ সব বুঝতে পারছেন।’
Advertisement
এলাকায় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়েও যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেটাকেও তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘ আমি দিনের তিনবেলা মাঠে আছি। আমার নিজের ভোট আমি নিজেই করছি। কারও দলে যোগ দিচ্ছি, কারও ভোট ঘুরিয়ে দিচ্ছি, এসব ভিত্তিহীন।
Advertisement
অপপ্রচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনপ্রিয়তা বাড়লেই এই ধরনের আক্রমণ আসে। আমাকে নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে, সেটা সম্পূর্ণ আমার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার ফল।এতে আমি বিচলিত নই। বরং আরও শক্তভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।
ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ক্রিকেট খেলে বড় হয়েছি। ক্রিকেট আমাকে শিখিয়েছে মাঠে টিকে থাকলে রান আসবেই। আমিও টিকে আছি, রান পাবো, সময় হলে ছক্কাও মারবো। ঠিক সময়মতো সেঞ্চুরি করে ব্যাটও তুলবো। আর পূর্বস্থলীর মানুষ সেই সেঞ্চুরিকে স্বাগত জানাবে ভালোবাসা আর আশীর্বাদ দিয়ে।’
দলের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবির যে ভরসা আমার ওপর রেখেছেন, সেই আদর্শ মাথায় নিয়ে হিন্দু-মুসলিম, সমস্ত সমাজের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বাংলার সম্প্রীতি রক্ষার গুরু দায়িত্ব নিয়েছি। এই লড়াই আমি আগামী দিনেও চালিয়ে যাব। আমরা এজেইউপি-র হয়েই লড়ছি। কোনও অবস্থাতেই পিছিয়ে আসব না।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তাঁর অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দুই বড় দলে কাজ করার ইতিহাসই আজকের এই জল্পনার মূল কারণ। তবে ভোটের ময়দানে তাঁর এই আত্মবিশ্বাস কতটা ফল দেয়, এখন সেটাই দেখার।
Advertisement



