শেষ দফার বঙ্গভোটে সকাল থেকে ভাঙড়ে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও পুলিশের নজরদারিতে ভোটাররা নির্ভয়ে বুথমুখী হন। কোথাও কোথাও ইভিএমে সামান্য বিভ্রাটের কারণে ভোট শুরুর ক্ষেত্রে দেরি হলেও বড় ধরনের অশান্তির খবর শুরুতে পাওয়া যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙড়ের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দুপুর গড়াতেই প্রাণগঞ্জ অঞ্চলের রঘুনাথপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। সেখানে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, তাঁকে দেখে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর পরই দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে পরিণত হয়। আইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে ওঠেন।
Advertisement
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরা লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনার মধ্যেই নওশাদ সিদ্দিকিকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
Advertisement
ঘটনার সময় নওশাদ নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁকে কেন্দ্র করে নতুন করে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বাহিনীর হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা নওশাদ সিদ্দিকির আচরণ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। শওকত মোল্লা বলেন, ‘ওঁর (নওশাদ) আচার, ব্যবহার কিছুই সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের মতো নয়। এসব দেখে বোঝা যায়, বদ্ধ উন্মাদ। ওঁর অভিযোগ, কথাবার্তাকে আমরা গুরুত্ব দিই না।‘
সব মিলিয়ে দিনের শুরুতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও ভাঙড়ে ভোটের মধ্যভাগে এসে আবারও রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। প্রশাসনের তৎপরতায় আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
Advertisement



