• facebook
  • twitter
Tuesday, 28 April, 2026

মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গুলি করে মারার’ হুমকি! বিজেপি মুখপাত্রকে ঘিরে তৃণমূলের তোপ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকির অভিযোগে বিজেপি মুখপাত্রকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বিজেপির এক জাতীয় মুখপাত্রের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে সামনে রেখে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে অভিযোগ তোলা হয়, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অজয় অলক একটি মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গুলি করে মারার’ হুমকি দিয়েছেন। সেই পোস্টে একটি ‘স্ক্রিনশট’ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ওই স্ক্রিনশটের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

Advertisement

তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ আধিকারিককে নিয়ে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছিলেন। সেই পোস্ট শেয়ার করেই অজয় অলক হিন্দিতে মন্তব্য করেন— যদি ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে গুলি করে মারা হবে। এই মন্তব্যকেই ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Advertisement

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে নিশানা করেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে হিংসার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে এবং তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

তৃণমূলের বক্তব্য, তিন বারের নির্বাচিত এক মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে যদি প্রকাশ্যে এ ভাবে হুমকি দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিজেপি বাংলায় ‘গোলি মারো’ সংস্কৃতি চালু করতে চায়।”

নির্বাচন কমিশনকেও কাঠগড়ায়

এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সমস্ত কিছু চোখের সামনে ঘটলেও কমিশন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, বিজেপি রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ে টিকতে না পেরে হুমকি ও ভয় দেখানোর পথ নিয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগে সাধারণ মানুষ এই চিত্র স্পষ্ট দেখছেন।

অভিযুক্তের পাল্টা দাবি

অভিযুক্ত বিজেপি মুখপাত্র অজয় অলক অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করছে। তাঁর দাবি, “গুলি করা আমাদের সংস্কৃতি নয়, এটা ওদের সংস্কৃতি।”

বিতর্কিত ভিডিয়ো নিয়েও জল্পনা

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিয়ো ঘিরে। সেখানে উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ আধিকারিককে দেখা যায় বলে দাবি। ওই আধিকারিককে নির্বাচন কমিশনের তরফে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযানের সময় তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়েও ইতিমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

Advertisement