• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে শোকবার্তা দিল্লির উপরাজ্যপালের

৮৩ বছর বয়সে দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর রবিবার প্রয়াত হন রঘু রাই। সন্ধ্যায় দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

দেশের আলোকচিত্র জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন দিল্লির উপরাজ্যপাল টি এস সন্দু। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘রঘু রাইয়ের চলে যাওয়ায় আলোকচিত্রের জগৎ এক কিংবদন্তিকে হারাল।’

উপরাজ্যপাল আরও জানান, ‘ক্যামেরার পিছনে তিনি ছিলেন এক অনন্য শিল্পী। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবিক সংবেদনশীলতার মিশেলে তিনি ভারতের আত্মাকে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর তোলা ছবি ভবিষ্যতেও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’

৮৩ বছর বয়সে দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর রবিবার প্রয়াত হন রঘু রাই। সন্ধ্যায় দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গত ছয় দশক ধরে তিনি জীবনের নানা রঙকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী, এমনকি সাধারণ পথচলতি মানুষ— সকলেই উঠে এসেছে তাঁর ছবিতে।

সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় যুক্ত ছিলেন রঘু রাই। তাঁর ছবিতে শুধু মানুষের অবয়ব নয়, ধরা পড়েছে তাদের মনের গভীর অনুভূতিও। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের প্রকৃত চিত্র লুকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

বর্তমানে তাঁর তোলা ছবির একটি প্রদর্শনীও চলছে, যেখানে ১৯৬৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তোলা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘শুধু বড় বড় নেতাদের ছবি তুললে চলবে না, গ্রামের মানুষ ও ছোট শহরের গল্প তুলে ধরা জরুরি। তবেই শাসকেরা তাদের দিকে নজর দেবেন।’

রঘু রাইয়ের এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর কাজ শুধু ছবি নয়, বরং সময়ের দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা শিল্পী মহলে।