• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

কী খেয়ে দেহের আকৃতি নষ্ট হয়েছিল বিশ্বসুন্দরী হরনাজের?

বিশ্বসুন্দরী হরনাজ় কৌর সন্ধু জানালেন, মিষ্টি কফির আসক্তিই ছিল ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ। তাঁর অভিজ্ঞতা ফিটনেস নিয়ে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের পর অনেকেই যেমন সহজেই অভিনয় জগতে জায়গা করে নিয়েছেন, তেমনটা হয়নি হরনাজ কৌর সন্ধুর ক্ষেত্রে। ২০২১ সালে খেতাব জয়ের পর আচমকাই তাঁর ওজন বেড়ে যায়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে নিজের শারীরিক পরিবর্তনের আসল কারণ প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

হরনাজ জানান, তিনি একটি অটোইমিউন রোগ ‘সিলিয়াক’ সমস্যায় ভুগছিলেন, যার ফলে গ্লুটেন সহ্য করতে পারতেন না। এই সমস্যার কারণেই শরীরে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে শুধু এই রোগই নয়, তাঁর একটি দৈনন্দিন অভ্যাসও ওজন বাড়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

তিনি জানান, নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও জিমের পর মিষ্টি কফির প্রতি তাঁর প্রবল আসক্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি নিউইয়র্কে থাকার সময় প্রায় রোজই বাড়ির নীচের একটি কফির দোকান থেকে বড় কাপে মিষ্টি কফি খেতেন। বিশেষ করে ক্যারামেল মিশ্রিত সেই কফি, যাতে অতিরিক্ত সিরাপ ও নানা টপিংস থাকত, তা তাঁর প্রিয় হয়ে ওঠে। তাঁর কথায়, ‘ওটা কফির চেয়ে ডেসার্টের মতোই ছিল।’ আর এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে তাঁর ফিটনেসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোর পরও শরীরে কোনও পরিবর্তন না দেখে হতাশ হয়ে পড়তেন তিনি। সেই সময় মানসিক ভরসা হিসেবে খাবারের উপর নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে যায়। ফলে ওজন কমার বদলে উল্টে বাড়তে থাকে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল বুঝতে পারেন হরনাজ। তিনি উপলব্ধি করেন, শুধুমাত্র শরীরচর্চা করলেই ফিটনেস অর্জন করা যায় না, বরং জীবনযাত্রার প্রতিটি দিকেই নজর দেওয়া জরুরি। নিয়ম মেনে খাওয়া, ধৈর্য ধরে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া— এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে তাঁকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে। প্রায় ছয় মাস পর থেকে তিনি শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে শুরু করেন।

তাই প্রায় পাঁচ বছর পর তিনি আবার নতুনভাবে ফিরছেন অভিনয়ে। শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যাবে।

উল্লেখ্য, হরনাজের এই অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য শিক্ষণীয়। শুধু জিমে গিয়ে ক্যালোরি কমালেই হবে না, বরং জিমের পর কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি পানীয় বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার অজান্তেই ফিটনেসের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে— সকলকে এই বার্তাই দিলেন বিশ্বসুন্দরী।