হরমুজ প্রণালী পেরোনোর সময় ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ভারত ও ইরানের মধ্যে। এই ঘটনার মধ্যেই একটি অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। যদিও ওই অডিয়োর সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দাবি করা হচ্ছে, অডিয়োটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’ থেকে পাওয়া। সেই অডিয়োতে শোনা যাচ্ছে, জাহাজের এক কর্তা ইরানের নৌবাহিনীর উদ্দেশে বলছেন, ‘আপনারাই তো আমাদের হরমুজ পার করার অনুমতি দিয়েছেন। এখন গুলি চালাচ্ছেন কেন? আমাদের ফিরতে দিন।’ এই বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা— অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা?
Advertisement
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। জানিয়ে দেওয়া হয়, অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ পার হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরে ভারত-সহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
Advertisement
কিন্তু ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে ইরান সাময়িক ভাবে অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করে, অন্যদিকে আমেরিকা জানায় তারা সেই সিদ্ধান্তে সহমত নয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই হরমুজে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এর মধ্যেই ঘটে যায় গুলিবর্ষণের ঘটনা। জানা গিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় দুটি ট্যাঙ্কার— ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’— এর উপর গুলি চালানো হয়। একটি ট্যাঙ্কার সৌদি আরব থেকে তেল নিয়ে ভারতে ফিরছিল, অন্যটি ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল।
ঘটনার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে হরমুজে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়— এটি কি ভুলবশত হামলা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
Advertisement



