নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার, ১৬ এপ্রিল— মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস জুড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের মাথাভাঙার সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ‘বাংলা ভাগ’, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং এনআরসি কার্যকর করার চক্রান্ত।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘মহিলা সংরক্ষণকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু এর সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস কেন জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? এতে মহিলাদের সম্মানহানি হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভোটের আগে রাজ্যের জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
Advertisement
এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকেও সরাসরি আক্রমণ শানান তিনি। নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, ‘নাম বাদ দেওয়ার জন্যই যে এসআইআর, তা নিজের মুখেই স্বীকার করা হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ‘যারা মানুষ তাড়ানোর কথা বলছে, তাদেরই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে।’
Advertisement
বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের সময় বাইরে থেকে লোক এনে বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় রাখা হচ্ছে এবং টাকা বিলির মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির বুথে বসার লোক নেই, তাই এজেন্সির মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে।’
এদিন বিতর্কিত ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি মানুষকে সতর্ক করে বলেন, ‘ফর্মে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নেওয়া হচ্ছে। ভুলেও দেবেন না—আপনাদের টাকাও লুট হয়ে যেতে পারে’।
নির্বাচনবিধি লাগু হওয়ার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারে ভোট এলেই অশান্তি কেন হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমার হাতে এখন আইনশৃঙ্খলার ভার না থাকলেও আগামী দিনে থাকবে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের সভা ছিল মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘোকসাডাঙায়, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মণের সমর্থনে প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—পুরো রাজ্য জুড়েই জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল শিবির।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় সভা ও রোড শো করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতেই তৃণমূলের এই জোরালো প্রচার। এদিনের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল এ বার আরও বেশি আসনে জিতবে। কোচবিহার থেকেই সেই জয়যাত্রা শুরু হবে।’
Advertisement



