• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

আই-প্যাক কর্তার গ্রেপ্তার ঘিরে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

আই-প্যাক কর্তার গ্রেপ্তার নিয়ে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা ও গণতন্ত্র নিয়ে তুললেন প্রশ্ন।

আই-প্যাক কর্তার গ্রেপ্তার ঘিরে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

MP Abhishek Banerjee Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতার গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই গ্রেপ্তার শুধুই একটি ঘটনা নয়, বরং এটি ‘সমান সুযোগের নির্বাচনী লড়াই’-এর ধারণাকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে আই-প্যাক (I-PAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, ‘যে কেউ বিরোধী শিবিরে কাজ করলে তাকেও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে—এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্র নয়, সরাসরি ভয় দেখানো।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদিকে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেই সুরক্ষা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ইডি, সিবিআই, এনআইএ-র মতো সংস্থাগুলি সংবেদনশীল সময়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। এতে মানুষের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।

ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ সবসময়ই তার গণতন্ত্র নিয়ে গর্ব করেছে। কিন্তু এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন—আমরা কি এখনও সেই অবস্থানে আছি?’

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির নেতৃত্বকেও কড়া বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘৪ এবং ৫ মে বাংলায় আসুন। সব সংস্থা নিয়ে আসুন। বাংলা ভয় পায় না, মাথা নোয়ায় না। চাপের জবাব প্রতিরোধ দিয়েই দেবে।’

তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের নির্ভয়ে অংশগ্রহণের অধিকার নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।