• facebook
  • twitter
Monday, 13 April, 2026

নানুর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে সমব্যথী প্রকল্পের ইতিহাস স্মরণ করলেন মমতা

সভায় মমতা জানান, নানুরে ১১ জন তফসিলি জাতির মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল

সোমবার বীরভূমের সিউড়িতে প্রচারে গিয়ে অতীতের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল বাম জমানার হাড়হিম করা নানুর হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি, যা তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, সেই ঘটনার পরই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ‘সমব্যথী’ প্রকল্প চালুর ভাবনা তাঁর মাথায় আসে।

সভায় মমতা জানান, নানুরে ১১ জন তফসিলি জাতির মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর কথায়, এক কর্মী তাঁকে জানিয়েছিলেন যে নিহতদের দেহ ঢাকার জন্য একটি সাদা কাপড় পর্যন্ত ছিল না। এই চরম অভাব ও অসহায়তার দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমের মাটি থেকে নানুরের সেই বিতর্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা একদিকে যেমন বাম আমলের ‘সন্ত্রাস’ নিয়ে সরব হলেন, তেমনই তাঁর সরকারের জনহিতকর প্রকল্পের নেপথ্যে থাকা ‘আবেগ’কেও ভোটারদের সামনে তুলে ধরলেন।

Advertisement

এই ভাবনা থেকেই ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের সূচনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনও দরিদ্র পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলে শেষকৃত্যের জন্য রাজ্য সরকার আর্থিক সহায়তা দেয়, বর্তমানে যার পরিমাণ ২ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

এদিন তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সূচনার পিছনের কারণও তুলে ধরেন। নোটবন্দির সময় সাধারণ মানুষের, বিশেষত মহিলাদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখনই তিনি ভাবেন মহিলাদের হাতে কিছু আর্থিক সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্প চালু করা হয়।

সভা থেকে তিনি সিপিআইএম ও বিজেপি—দুই দলকেই তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সিপিআইএম মানুষকে অত্যাচার করেছে আর বর্তমানে বিজেপিও বিভিন্নভাবে মানুষকে সমস্যায় ফেলছে।

 

Advertisement