উত্তরপ্রদেশের নয়ডার একটি কারখানায় বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছিল। টানা তিন দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ সোমবার চরমে পৌঁছয়। সকাল থেকেই ফেজ ২ এলাকার সেক্টর ১ এবং ৮৪-তে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে দিল্লি-নয়ডা সীমান্তে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়, কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।
প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও পুলিশ আসে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যায়। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়ে। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
Advertisement
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশের গাড়ি-সহ একাধিক যানবাহনে ভাঙচুর চালায় এবং কিছু ক্ষেত্রে আগুনও লাগানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা শ্রমিকদের আশ্বাস দেন যে তাঁদের দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা করা হবে।
Advertisement
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে শ্রম আইন মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং শ্রমিকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, অশান্তি উস্কে দেওয়ার অভিযোগে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভের আঁচে একটু একটু করে উত্তপ্ত হচ্ছিল নয়ডা। এক কারখানার শ্রমিকেরা দাবি জানান, তাঁদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। কাজের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তিন দিন ধরে এই দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন শ্রমিকেরা।
উল্লেখ্য, হরিয়ানা সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বাড়িয়েছে, ফলে তাঁদের মাসিক আয় ১১,২৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,২২০ টাকায় পৌঁছেছে। সেই প্রভাবেই নয়ডার শ্রমিকরাও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও রকম জবাব না দেওয়ায় শ্রমিকদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং শেষমেশ তা বিক্ষোভের আকার নেয়।
Advertisement



