কলকাতা নাইট রাইডার্স এবারে আইপিএল ক্রিকেটে কোনওভাবেই নজর কাড়তে পারছে না। এখনও পর্যন্ত কোনও ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারেনি। তবে গত ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের সঙ্গে কলকাতার খেলাটি বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। বৃষ্টির দয়াতে কলকাতা ১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে তলানিতে রয়েছে। সেই জায়গা থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে তার জন্য বৃহস্পতিবার অজিঙ্কা রাহানের কলকাতা দল অঙ্ক কষতে শুরু করেছে। প্রতিপক্ষ লখনউ দলও খুব একটা ভালো জায়গায় নেই। তবে গত ম্যাচে জয় পাওয়াতে কলকাতা থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কলকাতা যদি এই ম্যাচে জয় না পায়, তাহলে নকআউট পর্যায়ের খেলার দরজায় টোকা মারতে পারবে না। এমনকি বৃষ্টিতে যদি আবার খেলা ভেস্তে যায়, তাহলেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে অজিঙ্কা রাহানেদের। গত ম্যাচে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে কলকাতা দলে দু’জন খেলোয়াড় পরিবর্তন হয়। দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইনকে বাইরে রেখে দল গঠন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, টসে জিতে কলকাতা কেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই বিষয়টাকেও কৈফিয়ত দিতে হয়েছে অধিনায়ককে। সেই কারণেই লখনউয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক থেকে অজিঙ্কা রাহানেকে খেলার পরিকল্পনা কষতে হবে। এমনকি কলকাতার দুই বিদেশি ক্রিকেটার ফিন অ্যালেন ও ক্যামেরন গ্রিন একদম ফর্মে নেই। যার ফলে ব্যাটিং ফর্মে বার বার পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে। ইডেনের গ্যালারিতে বলিউড তারকা দলের কর্ণধার শাহরুখ খান হাজির থাকলেও, ক্রিকেটাররা উজ্জীবিত খেলা উপহার দিতে পারেননি।
কলকাতা দলে অজিঙ্কা রাহানে ফর্মে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। তবে অঙ্ককৃশ রঘুবংশী ও রাহুল ত্রিপাঠীরাও সেইভাবে বড় অঙ্কের রান না করলেও কিছুটা নির্ভর করা যায় অঙ্গকৃশের উপরে। সেই রিঙ্কু সিংকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। গত দু’বছর এই ইডেন উদ্যানে রিঙ্কু সিংকে যেভাবে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে ছিটকে গেছেন। এখন দেখার বিষয়, লখনউয়ের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট ঝলসে উঠতে পারে কিনা।
Advertisement
অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্রর উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে অনেকটাই। রভম্যান পাওয়েল গত ম্যাচে জায়গা পেলেও খেলার সুযোগ হয়নি। তাই লখনউয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি কী করতে পারেন, সেটাও দেখার বিষয়। টিম সেইফার্টের কাছ থেকে যে আশা করা গিয়েছিল, সে আশা উজ্জ্বল হয়নি। বোলার ব্লেসিং মুজারাবানি যদি লখনউয়ের বিরুদ্ধে ভালো খেলতে পারেন, তাহলে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে তাঁর জায়গা অবশ্যই পাকা হবে। তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সুনীল নারাইন যদি দলে চলে আসেন, সেক্ষেত্রে মুজারাবানিকে কি বলতে হবে?
Advertisement
তবে লখনউ দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেন মহম্মদ শামি। গত ম্যাচে নজর কেড়েছেন বোলিংয়ে। তাঁর বল দেখে ভারতের নির্বাচকরা ভাবতেই পারেন, তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে রয়েছেন। সেই কারণে ডাক পড়লেও অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। সেই শামি কলকাতার ইডেনকে হাতের তালুর মতো চেনেন। লখনউ দলের হয়ে তিনি অঘটন ঘটাতে পারেন, এই বিশ্বাস রয়েছে। যেহেতু বাংলার শামিকে দেখে অনেকেই লখনউকে সমর্থন জানাবেন। শামিও চাইবেন, সেরা বল করে দলের জয়ের পথকে সহজ করে দেওয়া। পাশাপাশি বলতে দ্বিধা নেই ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ লখনউ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
যে দলে ঋষভের মতো ক্রিকেটার থাকেন, সেই দল অনেকটাই এগিয়ে থেকে ক্রিকেট যুদ্ধে মাঠে নামে। ঋষভও চাইবেন, ইডেনে বড় রান করে দলের স্কোরবোর্ডকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দিতে। এই দলে রয়েছেন শাহবাজ আহমেদ, আবদুল শামাদ ও হেডেন মার্করামের মতো ক্রিকেটাররা। এঁরা প্রত্যেকেই যে কোনও সময় খেলার চরিত্র বদলে দিতে পারেন। রয়েছেন মায়াঙ্ক যাদব, হিম্মত সিং ও নিকোলাস পুরণ। প্রত্যেকেই দলের বড় হাতিয়ার, তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সেই কারণেই মর্যাদার লড়াইয়ে কলকাতার সঙ্গে লখনউর খেলা দর্শকদের মাতিয়ে রাখবে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হচ্ছে সারাদিনই মেঘলা আকাশ কলকাতাকে ঢেকে রাখবে। এমনকি বিকেলের দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সন্ধের পরে মুষলধারে বৃষ্টি নামে, তাহলে কি পাঞ্জাবের মতো কলকাতার সঙ্গে লখনউয়ের খেলাটি ভেস্তে যাবে, এই চিন্তা দু-দলের কাছে ঘোরাফেরা করছে।
Advertisement



