শিশুর চোখে সামান্য সমস্যা দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই ছোট অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। শিশুদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে ‘লেজি আই’ বা অ্যামব্লায়োপিয়ার সমস্যা, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে অন্ধত্বের কারণও হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, লেজি আই এমন এক অবস্থা যেখানে একটি বা দু’টি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক ৬/৬ মানে পৌঁছয় না। যদিও চোখের গঠনে দৃশ্যত কোনও ত্রুটি নাও থাকতে পারে। সাধারণত ছোটবেলায় চোখের সঠিক বিকাশ না হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, জন্মের পর থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত চোখের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যে চোখের সঠিক বিকাশ না হলে, বা কোনও একটি চোখ দুর্বল হলে মস্তিষ্ক দুর্বল চোখটিকে উপেক্ষা করতে শুরু করে। ফলে সেটি আরও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
এই রোগের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। চোখের মাংসপেশির ভারসাম্যহীনতা, ছানি বা গ্লুকোমার মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি চোখ অন্যটির তুলনায় বেশি শক্তিশালী হওয়ায় দুর্বল চোখটি ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়।
লক্ষণ হিসেবে শিশুদের মধ্যে বারবার চোখ পিটপিট করা, রোদে একটি চোখ বন্ধ করে রাখা, পড়াশুনোয় সমস্যা, বারবার হোঁচট খাওয়া বা টিভি দেখার সময় মাথা কাত করার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।
Advertisement
চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ওষুধে এই রোগ সারানো সম্ভব নয়। বরং ভিশন থেরাপি, প্লিঅপটিক ও অর্থোপেডিক চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভালো চোখটি কিছু সময়ের জন্য ঢেকে রেখে দুর্বল চোখকে সক্রিয় করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
Advertisement
জন্মের পর ৬ থেকে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮ বছরের পর এই রোগের চিকিৎসায় সাফল্যের হার অনেকটাই কমে যায়। ১০ থেকে ১২ বছরের পর চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করাই একমাত্র উপায়। লেজি আই-এ শুধু চোখ নয়, মস্তিষ্কের ভিশন প্রসেসিংও প্রভাবিত হয়। মস্তিষ্ক দুর্বল চোখ থেকে আসা ছবি ‘ইগনোর’ করতে শুরু করে। তাই এটাকে অনেক সময় ‘ব্রেন আই কানেকশন প্রবলেম’ বলা হয়।
এক্ষেত্রে শিশুর ৩ থেকে ৪ বছর বয়সে প্রথম আই চেক-আপ করানো ভালো। পরিবারে চোখের সমস্যা থাকলে আরও আগে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিতসকেরা। এক্ষেত্রে ভিশন টেস্ট, রেটিনা ও লেন্স পরীক্ষা করা দরকার। চেখের অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষাও করা হয়।
লেজি আই-এর ক্ষেত্রে চশমা ও থেরাপি দুটিই দরকার। শুধু চোখের পাওয়ার ঠিক করলেই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হয় না। এখন কিছু নতুন থেরাপিও ব্যবহার হচ্ছে। ভিশন থেরাপি গেমস্, থ্রিডি বা ভিআর থেরাপি, কিছু ক্ষেত্রে স্পেশাল ফিল্টারস্ বা লেন্সেস ব্যবহার করা হয়।
লেজি আই ধরা পড়লে ভয় পাওয়ার কিছু নেই—কিন্তু দেরি করা সবচেয়ে বড় ভুল। যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, তত সহজে এই সমস্যা ঠিক করা সম্ভব।
Advertisement



