• facebook
  • twitter
Saturday, 4 April, 2026

ভবানীপুরে শাহের রোড-শোতে গাফিলতি, সাসপেন্ড ৪ পুলিশ আধিকারিক

ভোটের আগে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের

ফাইল চিত্র

বিধানসভা ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনওরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না— শনিবার স্পষ্টভাবে এই বার্তাই দিল নির্বাচন কমিশন। শুভেন্দুর মনোনয়ন উপলক্ষে শাহের রোড-শো ঘিরে ভবানীপুর কেন্দ্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু সাসপেনশন নয়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরুরও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

Advertisement

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, যেসব পদে শূন্যতা তৈরি হবে, সেখানে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের আগে কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলার ঘাটতি না থাকে।

Advertisement

ভবানীপুর এলাকায় বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া বিজেপির একটি রোড শো কালীঘাট এলাকায় পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে উস্কানি দিয়ে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কলকাতা পুলিশের কাজকর্ম নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিল—ভোটের আগে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

Advertisement