সোনার দামে বিশ্ববাজারে বড়সড় পতন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে যে হারে সোনার দর কমেছে, তা গত ১৭ বছরের মধ্যে অন্যতম খারাপ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এত বড় পতন আর দেখা যায়নি বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।
মার্চ মাস জুড়ে এই মূল্যবান ধাতুর প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমেছে। ফলে যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই পতন সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে সোনা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনার জেরে প্রথমে সোনার দামে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হতে পারে— এই আশায় একদিন দাম বাড়লেও পরের দিনই ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
Advertisement
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সুদের হার বেশি থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে ডলারকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন। এর প্রভাব পড়ছে সোনার দামে। রাশিয়া ও তুরস্কের মতো দেশগুলিও বিপুল পরিমাণ সোনা বাজারে বিক্রি করায় সরবরাহ বেড়েছে। রাশিয়া গত দুই মাসে প্রায় ১৪ টন সোনা বিক্রি করেছে বলে জানা গিয়েছে। নিজেদের অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে এবং মুদ্রার মান ধরে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর সোনার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। ফলে এখন যে পতন দেখা যাচ্ছে, তা অনেকটাই স্বাভাবিক সংশোধন। শেয়ারবাজারের মতোই সোনার ক্ষেত্রেও অনেক সময় দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেন, এতে দাম কিছুটা নেমে আসে এবং বাজারে ভারসাম্য ফেরে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সময়টি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন তুলনামূলক কম দামে সোনা কিনে রাখলে ভবিষ্যতে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বলা যায়, বাজারে এখন অনিশ্চয়তা থাকলেও সোনার চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে কমবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement



