শুক্রবার হরিরামপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলুন আমার সঙ্গে এক মঞ্চে ডিবেট করতে। মুখোশ টেনে খুলে দেব। টেলিপ্রম্পটার ছাড়া কোনও কথা বলতে পারে না। শুধু সাজানো ইন্টারভিউ দেয়। আমরা ভুল বললেও সেটা সংশোধন করি।’
ডবল ইঞ্জিন সরকারের কার্যক্রমকে নিশানা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘বিজেপিকে কেন ভোট দেবেন? সাংসদ হয়ে কিছু করেনি। বাংলা বলায় অন্যান্য রাজ্যে বাঙালিকে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। আগামিদিনে টিকে থাকতে হলে তৃণমূলকে ভোটে জেতাতে হবে।’ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগে মণিপুর সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান মোটা ভাই। সঙ্গে আছে এজেন্সি, তাই মোটা ভাইয়ের কত আনন্দ। শুধু ফোন করে আর থ্রেট করে।’
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ‘এবার লড়াই দুরন্ত হতে হবে। নাম কাটার বদলা নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের সাবধান, বিহারের মতো ভোট কাটার খেলা চলছে। আমার মন বলছে এরা তারাতারি বিদায় নেবে। বাংলার ভোট জেতা জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঝড়-জলে মোটা ভাই কোথায় থাকে? নির্বাচন এলেই বসন্তের কোকিল ডাকা শুরু করে।’
Advertisement
শুক্রবারের জনসভা থেকে মমতা ভোটারদের বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ঝাড়ু নিয়ে ভোট দিতে যাবেন। এরা সিপিআইএম-এর থেকেও ভয়ঙ্কর। সব সিপিএম এখন বিজেপি করে। এরা খুব বিষাক্ত। যারা ভোটারদের নাম কেটেছে, তাদের একটিও ভোট দেবেন না। যাদের নাম বাদ গেছে তারা তারাতারি ট্রাইব্যুনালে আপিল করুন। দরখাস্তের ফর্ম দিয়ে সাহায্য করুন পার্টি অফিস থেকে। এরা চায় তৃণমূলের ১০-২০টা প্রার্থীর নাম বাতিল করতে।’
মালদার ঘটনাকে বাংলার সম্মান নষ্টের ঘটনায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা স্থানীয় মানুষের ভুল নয়। হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল, সঙ্গে কিছু কমিউনাল লোক। তারা ভোটের সময় বিহারে গিয়ে ভোট ভেঙে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। মালদাতেও তারা একই করছে।’
সিআইডি-র প্রশংসা করে মমতা বলেন, ‘যে করেছে তাকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। স্থানীয় পুলিশ নয়, সিআইডি ধরেছে। কমিশন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে বদলেছে, তাই আমার হাতে ক্ষমতা নেই। তবে সিআইডি এখনো আমার হাতে, তাই আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা সম্ভব।’
তিনি অভিযোগ করেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বহিরাগত। মমতার আবেদন, ‘খবর রাখুন বাইরের কারা আসছে, গেস্ট হাউজ বুক করছে, থাকছে। কারা ক্রস বর্ডার টেররিজম করছে। এত সেন্ট্রাল ফোর্স থেকেও কেন এসব রুখতে পারছেন না? আপনাদের আতিথেয়তা দেব আমরা আর আমাদের ভোট লুঠ করে চলে যাবেন তা হতে পারে না।’
মুখ্যমন্ত্রী এই সভা থেকে সাধারণ ভোটারদের সতর্ক করে বলেছেন, ভোটের সময় অচেনা কারও সঙ্গে ব্যাঙ্ক বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা যাবে না। তিনি বাংলার ভোটে একত্রিত হয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Advertisement



